দাসেরা কখনও মুক্তির জন্য লড়াই করেনা

২রা জানুয়ারী ১৯৭৫-২০২০ আমি শোক করছিনা। পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার স্বপ্ন এখন মৃত। স্বাধীনতার লড়াই এখন মৃত। নেতা মৃত। আমিও মৃত। মৃতেরা শোক করেনা।  যুগে যুগে গণহত্যা হয়,  শহীদদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ হয়। জীবিতেরা কখনও ফিরে দ্যাখেনা, এইসব মৃত্যুর খবর রাখেনা। দাসত্বের শৃঙ্খল অনুভব করেনা। গালভরা ভুয়া স্বাধীনতার সাইনবোর্ডে হাত বুলিয়ে শান্তনা পায়। না ভালবাসে নিজেকে না ভালবাসে দেশকে । ভালবাসে শুধু সেই চকচকে সিকি যার দুইপাশে একই ছবি। নিরুপায় শোষিতেরাই শোষকের হাতে তাদের শ্রম, ঘাম, রক্ত পৌঁছে দেয় । ভাত ছড়ালে কাকের অভাব নেই। টাকা ছড়ালে দালালের বেইমানের অভাব নেই। বিশ্বাসঘাতকের হাত ধরেই যুগ যুগ ধরে বিদেশীরা এসেছে পূর্ব বাংলাতে।

১৯৭২-১৯৭৫ সালের ভেতর অগুনিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। বিশ্বাসঘাতকতার ফলাফল কি ভয়ঙ্গকর হতে পারে – সেটা ৪৯ বছর ধরে সবাই উপলব্ধি করছেন। উধোর পিন্ডি বুধোড় ঘাড়ে চাপিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছে দিনকাল। নতুন করে বলার কিছু নেই।

লাখো ইনসান ভুখা হ্যাঁয়
ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যাঁয়

১৬-১২-১৯৭১ তারিখে পূর্ব বাংলার মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল মাত্র। শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় পর্ব। মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয়পর্বে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের ভেতর বেশীরভাগ সদস্যই ছিলেন বামপন্থী। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্বে এরা বাংলাদেশে থেকেই পাক হানাদার বাহিনী ও ভারত সরকারের পক্ষে  আল বদর বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করেন।

১৯৪৭ সালের ফস্কে যাওয়া সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা পূর্ব বাংলাকে ফিরে পেয়ে অনুউর্বর পশ্চিম বাংলাকে উর্বর ও স্বনির্ভর, ভারতের পণ্য বিক্রির বাজার, ভারতের বেকারত্ব হ্রাস আর দারিদ্র মোচন সব কিছুর বিনিময়ে ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবের সাথে ভারতের আগরতলায় চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পেয়েছে আজন্ম প্রশাসক হিসাবে ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশে্র জনগনকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দাবিয়ে রেখে ভারতের দাসত্ব করার দায়িত্ব।

১৯৬৯ সালের ছাত্রনেতারা যারা জীবিত তাঁরা সবাই এখন বৃদ্ধ এবং বন্দী।
আওয়ামীলীগের বন্দুকের নলের মুখে শেষ বয়সে এরা খোলা আকাশের নীচে কাপড় খুলে দেহ ব্যবসা করছে – যে দেহ কেনার কোন খরিদ্দার নেই। আওয়ামীলীগ এখন একমাত্র তথাকথিত রাজনৈতিক দল যারা ভারতের সেবার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে সম্পদ লুট পাচার আর বাংলাদেশীদের উপর জেল জুলুম নিপীড়ন করে থাকে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় – দুই পর্বের মুক্তিযুদ্ধই ব্যর্থ হয়েছে মুজিব বাহিনী, রক্ষীবাহিনীর গণহত্যা এবং দলীয় সদস্যদের বিশ্বাসঘাতকতার কারনে। ভারতের অঙ্গরাজ্য প্রতিষ্টার জন্য বুলেট বেয়োনেড নির্যাতন গণহত্যা সফল হয়েছে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই পর্বেই যিনি মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন তিনি ছিলেন কৃতী প্রকৌশলী বিপ্লবী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদাঁর। আজ ২রা জানুয়ারী। ১৯৭৫ সালের ২রা জানুয়ারী কমরেড সিরাজ সিকদারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় । সেই সাথে দ্বিতীয় পর্বের মুক্তিযুদ্ধ থেমে যায়। স্থায়ীভাবে তখন থেকে বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য। আওয়ামীলীগ ভারতের রাজ্যসরকার। শেখ মুজিব বাংলাদেশে ভারতের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী – মাঝে যারা সরকার হিসাবে এসেছে ওদের রাখা হয়েছিল সময় অতিবাহিত করার জন্য। কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হয়না। মহাশংকর জাতী বাংলাদেশীদের স্বাধীনতা সহ্য হয়না। দাসত্বেই ওরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

আহমেদ মুসার লেখা প্রামান্য দলিল – আদালতের কাঠগড়ায় আওয়ামীলীগ
এর কিছু অংশ নীচে দেওয়া হলো ।

৫ thoughts on “দাসেরা কখনও মুক্তির জন্য লড়াই করেনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.