বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে হচ্ছে গুম, হত্যা, দুর্নীতি, চুরি, লুটপাটের চেতনা, দূর্ভিক্ষ, অনাচার, বাকশাল কায়েম, সাংবাদিক হত্যা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরনের ইতিহাস।
সোমবার পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিগেন্সী হোটেলে লন্ডন বিএনপি আয়োজিত লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান এসব কথা বলে।
আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে বাকশাল কায়েম করা, গণতন্ত্র হত্যা করা, মানুষের মুখ বন্ধ করা, সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, ৪টি বাদে সকল পত্রপত্রিকা বন্ধ করা, ৭৪এর দুর্ভিক্ষ, ৭ কোটি কম্বল চুরির ঘটনা, সিরাজ শিকদারসহ সকল বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, বিদেশীদের দেয়া ক্রেস্টে থেকে সোনা চুরি, ৪৪০ কোটি টাকা দিয়ে পচা গম আমদানি যা মানুষ তো নয়ই পশুর খাওয়ারও উপযুক্ত নয়, দেশি ও বিদেশী পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হওয়া যে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমানো টাকার পাহাড়, দুর্নীতিতে চ্যম্পিয়ন হওয়া, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই সেখান থেকে দুর্নীতি করা, কুইক রেন্টালের নামে সেখান থেকে কুইক মানুষের পকেট খালি করা, শেয়ার বাজারে ৩০ লক্ষ মানুষকে সর্বশান্ত করা, নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন, ইলিয়াস আলী এবং চৌধুরী আলমের গুম, সালাহউদ্দিনকে অপহরণ, ৭০ লাখ টাকা চুরির ব্লাক ক্যাটের উত্থান, যে রুমে হাসিনার নির্দেশে সাগর রুনিকে হত্যা করা হয় সে রুমে শেখ হাসিনার পাহারা না দিতে পারা ইত্যাদি।
অন্যদিকে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে বাকশাল থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, প্রেসিডেন্টশিয়াল থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র, দুর্নীতি ছাড়া যমুনা ব্রিজ করা, ইন্টার মিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা, ১৯৯১-১৯৯৬ সালের মধ্যে দেশে ৮০ লাখ কলকারখানা করা যার স্বীকারোক্তি তৎকালীন শিল্পমন্ত্রি সংসদে দাঁড়িয়ে করেছিল ইত্যাদি। এসব চেতনা ছিল বলেই বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন করতে পেরেছিল।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলে কোন মিডিয়া বন্ধ হয়নি। যারা বলে ২১শে টিভি বিএনপি বন্ধ করেছিল তাঁরা ভুল বলে। একুশে টিভি বন্ধ হয়েছিল তাদের টেরিস্টোরিয়াল ট্রান্সমিশনের জন্য কিন্তু তাদের স্যাটেলাইট পারমিশন বন্ধ হয়নি। তাঁরা নিজেরা ট্রান্সমিশন করেনি এটা ছিল তাদের ব্যর্থতা।
বক্তব্যের শেষে অবৈধ সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিগত ৫/৬ বছরে যারা নিহত হয়েছেন কিংবা যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং জেলে বন্ধি ছিলেন বা আছেন তাদের সবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান দেশনায়ক তারেক রহমান।

