১৬৯ রানে থামল দক্ষিণ আফ্রিকা

ঢাকা: প্রথম টি২০’র মত দ্বিতীয় টি২০তেও টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে সাবধানি ব্যাটিং করতে থাকেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই দু’জনের ৯৫ রানের ‍জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে ১৬৯ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়ে দেয় প্রোটিয়ারা। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন কুইন্টন ডি কক। ৪০ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স। বাংলাদেশের নাসির হোসেন নেন ২টি উইকেট।

খেলা শুরু থেকেই বাংলাদেশ যাথারীতি স্পিন দিয়ে বোলিং আক্রমণ শানাতে থাকে। দুই প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। বোলার আরাফাত সানির স্পিন ফাঁদে পা না দিয়ে প্রথম ওভারেই ৯ রান তুলে নিলেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। ডি ভিলিয়ার্সই নিলেন ৮ রান। দুটি বাউন্ডারির সাহায্যে।

দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসেন নাসির হোসেন। এই ওভারেও ৯ রান দিলেন তিনি। তবে কোন চার কিংবা ছক্কা নয়। দু’বার ৩ করে, একটি ২ এবং একটি ১ রান ছিল এই ওভারে। ডি ভিলিয়ার্স ১০, ডি কক ২ রানে রয়েছেন ক্রিকেটে।

তৃতীয় ওভারে এসে আরাফাত সানি দিলেন ১১ রান। এর মধ্যে কুইন্টন ডি ককই মেরেছেন পরপর দুটি বাউন্ডারি। তিনটি ছিল সিঙ্গেল। ডি কক ১২ এবং ডি ভিলিয়ার্স রয়েছেন ১০ রানে।

চতুর্থ ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে নিয়ে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আশা একটি যদি ব্রেক থ্রু আনা যায়। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্স আর ডি কক বেশ দেখে শুনেই তাকে মোকাবেলা করলেন। ১টি বাউন্ডারিসহ মোট ৭ রান নিলেন তার কাছ থেকে। ৪ ওভারে দলীয় রান দাঁড়াল ৩৬। ডি কক আর ডি ভিলিয়ার্স দু’জনই রইলেন ১৭ রান করে।

পঞ্চম ওভারে আনা হয় সাকিব আল হাসানকে। টি২০তে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সাকিবও চেষ্টা করেছিলেন বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে কোন উইকেট যদি পাওয়া যায়। তবে সতর্ক দুই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান এবারও সাকিবকে খেললেন দেখেশুনে। কোন বাউন্ডারি নেই। নিলেন মাত্র ৫ রান।

৬ষ্ঠ ওভারেও আসলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের বাম হাতি এই বিস্ময় বালকের ভীতি সম্ভবত ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে প্রোটিয়াদের। ৬ষ্ঠ ওভারে এসে মুস্তাফিজ থেকে ডি কক আর ডি ভিলিয়ার্স মিলে নিলেন ১০ রান। বাউন্ডারির মার দুটি। ডি ভিলিয়ার্স ২৫ এবং ডি কক রইলেন ১৮ রানে। দলীয় রান ৫১।

সপ্তম ওভারেও বল করতে আসেন সাকিব আল হাসান। তার প্রথম ৫ বলের একটি থেকে হলো বাউন্ডারি, তবে ব্যাট থেকে নয়। বাই থেকে। শেষ বলে এসে ডি কক মারলেন ছক্কা। ইনিংসের প্রথম ছক্কা। রান তোলা হল ১৪। ইনিংসে এ পর্যন্ত এক ওভারে সর্বোচ্চ। মোট রান ৬৫। ডি কক ২৭, ডি ভিলিয়ার্স ২৬ রানে রয়েছেন ক্রিজে।

অষ্টম ওভারে বল করতে এলেন দলপতি মাশরাফি। তিনি চেষ্টা করলেন স্লোয়ার, ইয়র্কার বিংকা সুইং দিয়ে দুই প্রোটিয়া ওপেনারকে ফাঁদে ফেলতে। কিন্তু পারলেন না। তিনি বেশি রান না দিলেও একের পর এক মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে জ্যামিতিক হারে রান বাড়ছে প্রোটিয়াদের। মাশরাফির কাছ থেকে কোন বাউন্ডারি নিতে পারেনি। তবে সিঙ্গেল করে নিয়েছে ৬ রান। দলীয় রান ৭১। ‍ডি কক ৩০, ডি ভিলিয়ার্স ২৯ রানে রয়েছেন ক্রিজে।

নবম ওভারে মাশরাফি বল তুলে দিলেন সৌম্য সরকারের হাতে। প্রথম তিন বলে দিলেন তিন রান। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম এবং ৬ষ্ঠ বলেই পর পর দুটি  বাউন্ডারি। ফলে এই ওভার থেকে রান এলো ১১। প্রোটিয়াদের দলীয় রান ৮২। ডি ভিলিয়ার্স ৩৮, ডি কক ৩২ রানে রয়েছেন ক্রিজে।

216945দশম ওভার বল করতে আসেন মাশরাফি। এ ওভারের প্রথম বলেই মিস ফিল্ডিং। লিটন দাসের হাত গলে হয়ে গেলো বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে এসে ডি কক মারলেন ছক্কা। এই ওভার থেকে এলো মোট ১৩ রান। অথ্যাৎ ১০ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান কোন উইকেট না হারিয়ে ৯৫। উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স এবং ৪৪ রান নিয়ে রয়েছেন ডি কক।

১১তম ওভারে এসে আবারও আরাফাত সানিকে ফিরিয়ে আনলেন মাশরাফি। এই স্পিনারের বল একটু সমীহ করেন সম্ভবত ডি কক। এ কারণে প্রথম দুই বলে কোন রানই নিতে পারলেন না। তৃতীয় বলে এসে হানলেন প্রথম আঘাত। মিড উইকেটে ডি কককে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন সাব্বির রহমানের হাতে। ৯৫ রানে ঘটলো প্রথম উইকেটের পতন। ৩১ বলে ৪৪ রান করেন ডি কক।  এই ওভারে আরাফাত রান দিলেন মাত্র ৩টি।

১২তম ওভারে এসে নাসিরকে ফিরিয়ে আনলেন মাশরাফি।  নাসিরের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন ডুমিনি। কিন্তু দ্বিতীয় বলেই ফাঁদে পা দেন ডুমিনি। সুইপ করতে গিয়ে বল ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায় উপরে। সাকিব অনায়াসে বলটি তালুবন্দী করে নেন। ৬ রানে ফেরেন ডুমিনি। পরের বলে আবারও উইকেট। এবার নাসিরের আউট সুইঙ্গার ব্যাটের কানায় লাগালেও সেটি চলে যায় মুশফিকের হাতে। ৩৪ বলে ৪০ রান করে আউট হন ডি ভিলিয়ার্স। তৈরী হয় হ্যাটট্রিক চান্স। তবে ডেভিড মিলার হ্যাটট্রিক হতে দিলেন না নাসিরকে। ওভারের শেষ বলেও জোরালো আবেদন উঠেছিল আউটের। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। এ ওভার থেকে রান এলো ৬টি। ১২ ওভার শেষে রান ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৪।

১৩তম ওভারেও এলেন আরাফাত সানি। এ ওভারে ডু প্লেসিস আর ডেভিড মিলার মিলে নিলেন ৯ রান। কোন বিপদ তৈরী করতে পারেননি সানি।

১৪তম ওভারে আবারও নাসির হোসেন। এবারও রান নিয়ন্ত্রণ করলেন তিনি। উইকেট না নিতে পারলেও রান দিয়েছেন মাত্র ৭টি। ডট বল দিলেন ২টি।

১৫তম ওভারে বল করতে এলেন মাশরাফি নিজে। ডেভিড মিলার তার একটি বলকে বাউন্ডারি মারলেও মোট রান দিয়েছেন মাত্র ৬টি।  ১৫ ওভার শেষে প্রোটিয়াদের রান দাঁড়াল ৩ উইকেটে ১২৬।

১৬তম ওভারে আবারও এলেন নাসির। এটা তার শেষ ওভার। তবে এই ওভারে বেশ রান নিয়ন্ত্রণ করলেন নাসির। রান দিলেন মাত্র ৪টি। ডট বল দিলেন ২টি।

১৭তম ওভারে বল করতে আসেন সাকিব আল হাসান। তার তৃতীয় ওভার এটি। সাকিবও বেশ রান নিয়ন্ত্রণ করলেন। একেবারে স্লগ ওভারে এসে মাত্র ৩টি রান দিলেন তিনি। ডট বল দিলেন তিনটি।

১৮তম ওভারে এসে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দিলেন মাশরাফি। তার প্রথম তিন বল থেকে তিন রান নিলেন ডু প্লেসিস আর ডেভিড মিলার। চতুর্থ বলে এসে দিলেন কাটার। জোরে খেলতে গিয়ে প্লেসিস বলটি তুলে দিলেন আকাশে। উইকেটের ওপরই ছিল বল। মুশফিক তালুবন্দী করে নিলেন ক্যাচটি। ১৭ বলে ১৬ রান করে আউট হলেন ডু প্লেসিস। প্রথম টি২০তে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়টিতে এসে অন্তত একটি উইকেট পেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ওভারে দিলেন মাত্র ৪ রান।

১৯তম ওভারে এসে সাকিব আল হাসান দিলেন ১৯ রান। দুটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মারেন তাকে রিলে রুশো আর ডেভিড মিলার। দলীয় রান দাঁড়াল ৪ উইকেটে ১৫৬।

২০ এবং শেষ ওভার করার জন্য মুস্তাফিজের হাতেই বল তুলে দিলেন মাশরাফি। এই ওভারটাও ছিল মোটামুটি খরুচে।  মুস্তাফিজের বল থেকে একটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মারেন ডেভিড মিলার এবং রিলে রুশো। রান দিলেন ১৩। সব মিলিয়ে ২০ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান দাঁড়াল ১৬৯। বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৭০। ডেভিড মিলার ২৮ বলে ৩০ এবং রিলে রুশো ৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৯ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৯/৪, ২০ ওভার (ডি কক ৪৪, ডি ভিলিয়ার্স ৪০, ডেভিড মিলার ৩০*, রুশো ১৯*, প্লেসিস ১৬; নাসির ২/২৬, আরাফাত সানি ১/৩১, মুস্তাফিজ ১/৩৪)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.