জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেষ্টার কোন ত্রুটি না থাকলেও নিয়ন্ত্রণহীন থেকেই এক বছর (২০১৪) পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
তবে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সুশৃঙ্খল ভাবেই পরিচালিত হয়েছে ছাত্রলীগ। এমন দাবি করেছেন জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল।
দেশের প্রথম নারী ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের দিনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব ও সাংগাঠনিক সম্পাদক দীপু গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নেহাল, শেফা, টিটো, ইমরান, রবিউল, পিপু সনেট, তাজ, বিজয়, রাজু, জাহিদ, নিজাম, রাব্বিসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তারা।
বিশেষ করে মওলানা ভাসানী হলে জাবি সভাপতি জনি গ্রুপের নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদক রাজিব গ্রুপের হুমায়ুন, শাকিল, রোকনুজ্জামান, সবুজ, রোমানসহ ১৩ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করে। পরে আবার পাল্টা জবাব হিসেবে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপও সভাপতি গ্রুপের চার নেতাকর্মীকে প্রধান ফটকের সামনে মারধর করে। বছরজুড়ে বিরোধী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হল থেকে বের করে দেয়া, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল, বিভিন্ন অজুহাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস আটকানো, নির্মাণ কাজ বন্ধ, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধ করার অভিযোগে শিরোনাম হয়েছেন তারা।
এদিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনুমতি না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২৩ জানুয়ারি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক শিক্ষককে মারধর করে ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মামুন খান। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি ও শিক্ষক মারধরের ঘটনায় ১ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের কেন্দ্র থেকে ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বহিষ্কৃত হয়েছেন। ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি। যদিও অনেকের বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হয়েছে। দু’একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়া অতীত যেকোন সময়ের চেয়ে জাবি ছাত্রলীগ ভালো একটি বছর পার করেছে দাবি করে ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, জাবি ছাত্রলীগ শিক্ষা শান্তি প্রগতির বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে হলে হলে পাঠচক্র আয়োজন করেছে। কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচি যথাযথ পালন করেছে। নের্তৃত্ব তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ হলেই হল কমিটি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

