৫৪ তম পর্ব
এখনইসময়।ভাবতে হবে দেশের প্রতিটি নাগরিককে, সে যেই প্রজন্মেরই হউকনা কেনও, দাসত্ব নাকি স্বাধীনতা। লক্ষপ্রাণেরশাহাদত, অগুণতিমা-বোনের ইজ্জতের আহূতি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করে গর্বিত সাহসী বাংলাদেশী হিসেবে মাথা উঁচু করে নিজস্ব সত্তা বজায় রাখারতাগিদে, সবচক্রান্ত এবং রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা কোরে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনে যেকোনোও ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত কিনা।ধোঁকাবাজগিরগিটিচরিত্রেররাজনৈতিকনেতা-নেত্রী, স্বঘোষিতসুশীল সমাজেরমাথা, ধড়িবাজ,পোষা,বিবেক বর্জিতবুদ্ধিজীবীদেরকপচানো মিথ্যার অন্ধকার চোরা গলিতে ঘুরপাকে বিগত চার দশকেরও বেশি সময় নষ্ট করে দেশ আজ বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে।
এরপরও নীরব দর্শক হয়ে থাকবে সচেতন আমজনতা?
পূর্বসূরিদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা নামক ফুলটিকে বাঁচানোর প্রত্যয় কি শুধুমাত্র বটমূলে বসে পান্তাইলিশ খাওয়া আর ঘুম পারানি গানের মধ্যেই থাকবে সীমাবদ্ধ?
এখনি‘৭১-এর সত্যিকারের মৌলিক প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে জেগে উঠতে হবে নবীন প্রজন্মকে আরেক বার।
গর্জে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে পূর্বসূরিদের মতো আগ্রাসী অপশক্তি এবং তাদের লালিতপালিত জাতীয় তল্পিবাহক এবংসেবা দাস-দাসীদের ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের মোকাবেলায় সার্বিক মুক্তির আর একটি সার্বিক মুক্তির যুদ্ধে। যেকোনো মূল্য এবং ত্যাগের বিনিময়ে প্রমাণ করতে হবে, ঐতিহাসিক ভাবে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী সংগ্রামী ঐতিহ্যের অধিকারী। একটি পরীক্ষিত বীরের জাতি কখনোই মেনে নিতে পারেনা অরক্ষিত স্বাধীনতার নামে পরাধীনতা। তাদের প্রাপ্য প্রকৃত স্বাধীনতা এবং সার্বিক মুক্তি।
কি ঘটেছিলো ২৮শে জানুয়ারি ২০১০ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে?
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব মালেক উকিলের লন্ডনে উচ্চারিত উক্তি অনুযায়ী, ১৫ই আগস্টের সফল বৈপ্লবিক সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে ফেরাউন শেখ মুজিবের স্বৈরাচারী বাকশাল সরকারের পতন ঘটানোর মাধ্যমে শ্বাসরুদ্ধকর একনায়কত্বের স্বৈরশাসনের নাগপাশ থেকে জনগণ নাজাত লাভ করেছিল। নাজাত দানকারী দেশ মাতৃকার এই অগ্রণী বীরদের ‘সাধারণ খুনি’ হিসেবে কোন আইনে বিচার করল শেখের বেটি হাসিনা? জিয়ার বউ খালেদাই বা কেনো এই অন্যায় বিচারের প্রতিবাদ করল না? ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া আর তার জোটের শরিক জামায়াত এবং অন্যরা কেন এই বীরদের মিথ্যা মামলার হাত থেকে মুক্তি দিল না? তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতার বিচার আল্লাহ্পাক নিশ্চয় করবেন, ছাড় পাবেনা এইসব জাতীয় বেঈমানদের কেউই। সবাই ডুকরে ডুকরে কাঁদছিল আর এইসব খেদোক্তি করছিল অন্তর থেকে। নিগৃহীত মানুষের ফরিয়াদে আল্লাহর আরশও কেঁপে ওঠে। বীররা সবাই ঐশ্বরিক শক্তিবলে ছিলেন শান্ত এবং জ্যোতির্ময়। কারও মুখে ভয়-ভীতি কিংবা কোন উৎকন্ঠার লেশমাত্র ছিল না। দেশি-বিদেশী বিভিন্ন সূত্রে এবং ফাঁসির সময় যে সমস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কয়েকজনের কাছ থেকেই হৃদয় বিদারক এইসব তথ্য পরে জানা সম্ভব হয়েছে। দেশের সূর্যসন্তান বীরদের ফাঁসিতে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলে বিএনপি জোটের নেতাদের ন্যক্কারজনক উত্তর দেশবাসীর অজানা নয়। কিন্তু যাদের জানা নেই তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি।
বিএনপি বলে, ‘‘মওদুদ ম্যাডামকে বিভ্রান্ত করে বীরদের মুক্ত করতে দেয়নি।’’ আর জামাত দায় এড়ায় এই বলে আমরা জোটের জুনিয়ার পার্টনার হিসেবে ম্যাডামকে অনুরোধ করেছিলাম বীরদের ফাঁসি বন্ধ করতে। কিন্তু ম্যাডাম জবাবে বলেছিলেন, ‘‘এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের দায়িত্বটা তার।’’ ম্যাডাম এখনও শিশু, বোতলে দুধ পান করেন।
দেশের সংবিধান অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় অবস্থিত সংরক্ষিত কবরস্থানে তাদের অন্তিম শয়ানে শায়িত করার কথা। কিন্তু জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে হাসিনা ও তার সরকার জাতীয় বীরদের সেই ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে। সব কয়টি শহীদের লাশ কড়া নিরাপত্তার সাথে তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং প্রিয়জনদের আপত্তির কোনো তোয়াক্কা না করেই। এতেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি প্রতিহিংসা পরায়ণ শেখ হাসিনা। স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আদেশ জারি করা হয়, যাতে শহীদদের জানাজায় লোকসমাগম না ঘটতে পারে। কিন্তু সচেতন মানুষের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার ঠেকাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন, সরকারী বাহিনী এবং দলীয় ক্যাডাররা। প্রতিটি শহীদের জানাজায় সব বাধা উপেক্ষা করে দেশের হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বণিতা শরিক হয়েছিল তাদের প্রিয় নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক, নির্ভীক,
প্রতিবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বুক ভরা দোয়ার সাথে শেষ বিদায় জানাতে। নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, কয়েকশত সরকারী অস্ত্রধারীদের হুমকি-ধামকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন পূর্বক মেজর হুদার গ্রামের বাড়িতে হুদার জানাজায় পাঁচ লক্ষেরও অধিক জনসমাগম হয়। ঠিক এমন ভাবেই লক্ষ জনতার ঢল নেমে এসেছিল সব বাধা অতিক্রম করে অন্যদের জানাজায়ও।
শহীদের মৃত্যু নেই। তারা বেঁচে থাকে চির জাগরূক হয়ে জন্ম-জন্মান্তরের প্রজন্মের প্রেরণা এবং সত্যপথের দিশারী হয়ে। তাদের মহত্ত্ব এবং আত্মত্যাগের বীরগাথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় লক্ষ কোটি সাহসী বীর, যারা লড়ে চলে ন্যায় ও সত্যের জন্য যুগে যুগে।
স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের প্রত্যেকেই হচ্ছে তিতুমীর, হাজি শরিয়তুল্লাহ, মাস্টারদা, ক্ষুদিরাম, তোরাব আলি, ভগত সিং-এর মতোই বিপ্লবী। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এদের বীরত্বগাথা, দেশবাসী গাইবে তাদের জয়গান। তাই নশ্বর এই পৃথিবীতে মরেও তারা হয়ে থাকবে অমর আগামীদিনের প্রজন্মের মধ্যেই।
সমাপ্ত
১ম পর্ব থেকে ৫৪ পর্বের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদূত কর্নেল শরিফুল হক ডালিম বীরউত্তম এর তিন ভাষায় সদ্য প্রকাশিত বই ” জিয়া থেকে খালেদা তারপর ” বইটির আদ্যপান্ত পোস্ট করা হল প্রিয় বন্ধু ও পাঠকদের জন্য।

