মৃত্যু, শোক, ক্ষমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার

বাংলাদেশে সব চাইতে সহজে যা পাওয়া যায় তা  হলো মৃত্যু। সব চাইতে দুর্লভ যা তা  হলো ভালবাসা। সব চাইতে সহজে পাওয়া যায় ক’এক কোটি ভুয়া সহানুভুতিশীল মানুষ যাদের হৃদয় প্লাস্টিকের কিন্তু তাদের চোখে সব সময় কুমীরাশ্রু ঝরতেই থাকে। প্রতিদিন পুলিশ,র‍্যাব, গুন্ডারা সব বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতানেত্রীমন্ত্রীর স্বার্থে বা নিজেদের স্বার্থে মানুষ হত্যা করছে। বাংলাদেশে আর কিছু পাওয়া যাক আর না যাক, প্রতিদিন গড়ে ষাট সত্তরটি লাশ ঠিকই পাওয়া যায়। কিছু লাশ ধর্ষিতা, খন্ড বিখন্ড মাঠে বা পথে বা ক্যান্টনমেন্টে পড়ে থাকে, কিছু লাশ পাওয়া যায় খালে, নদীর হাটু পানিতে, বা পথের পাশে, অনেক লাশ আছে মর্গগুলোতে, অনেকেই লাশ হবার জন্য অপেক্ষা করছে থানা হাজতে বা জেলগুলোতে। তাতে কিছু যায় আসেনা। কেউ এসব নিয়ে কথা বলেনা। লাশ দেখা গেলে সবাই মোবাইলে লাশের ছবি উঠিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে। সেই পোস্টের নিচে সবাই মন্তব্য করে অর্থহীন তারপর নতুন লাশের ছবি পোস্ট হয় পরের দিন। এইভাবে লাশের ছবি দিয়ে ভরে যায় ফেসবুকের দেওয়ালগুলো।

বাংলাদেশে পুলিশ গুলি করে মানুষ হত্যা করে প্রায় প্রতিদিন। এটা সবাই জানে। সবাই মেনেও নিয়েছে। পুলিশের অধিকার আছে নাগরিকদের বাসায় ঢুকে যাকে সামনে পাবে তাকেই গুলি করে হত্যা করার। একাত্তুরের দিনগুলির মত এখন বাংলাদেশ পুলিশ হয়ে গেছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। পথ থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেয়ে নির্যাতন করার ও টাকার জন্য পরিবারগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ কেউ কিছু মনে করেনা।

বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে এখন এক ভীতির নাম। এই ভয়ংকর পুলিশের পরিবারের একজন সদস্যকে কেউ গুলি করে মেরে ফেলতে পারে এটা যেন কেউ ভাবতেই পারেনা। ভীতিরও তাহলে ভয় আছে? খুনীরও তাহলে বাপ আছে?

যাই হোক এই পুলিশের বউকে হত্যা করার পরে ফেসবুকের দেওয়ালে দেওয়ালে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খুব সম্ভব এইসব লোকেরা ভেবেছে পুলিশের বউয়ের জন্য শোক করলে বুঝি তাদের জীবন নিরাপদ হবে। পুলিশের বউয়ের জন্য মেকী কান্নাকাটি করলে বুঝি তাদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেয়ে হাজতে নির্যাতন করবেনা। যদি করে তাহলে ফেসবুকে তাদের দেওয়ালে লাগানো শোকের রেফারেন্স দিতে পারবে। ভাই আমাকে মাইরেন না আমি আপনাদের ভাবীর মৃত্যুতে কেঁদে কেঁদে বহু রাত বিনিদ্র ফেসবুকের টাইম লাইনে স্টাটাসের পর স্টাটাসে শোক জানিয়েছি। এটা রেফারেন্স দেওয়া যেতে পারে। স্নাপ শট নেওয়া যেতে পারে।

ফেসবুকে আমি এক স্টাটাস দিয়েছিলাম —  পুলিশের লাথিতে যে মেয়েটির গর্ভপাত হলো বাবুল আক্তারের বউয়ের জন্য সেই মেয়েটির অনুভূতি কি?
একজন পুলিশ উত্তর দিয়েছে।
jpc1 jpc2
আমি আসলেই জানতে চেয়েছিলাম পুলিশের বউ বা ভাবীর মৃত্যুতে সেদিনের সেই নার্সদের সভাতে পুলিশে যাদের উপরে নির্যাতন চা্লিয়েছিল আজকে  সেইসব রক্তাক্ত নার্সদের অনুভূতি কি? রক্তাক্ত নার্সদের ছবি ফেসবুকে সবাই দেখেছে। পুলিশের দ্বারা যারা নির্যাতিত হয়েছে বা যাদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের নির্যাতনে বা গুলিতে মারা গেছে সেইসব মানুষেরা কেউ নিশ্চয় পুলিশকে আশীর্বাদ দেয়নি। দিতে পারেনা। অভিশাপ দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ অভিশপ্ত। আর তাদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে এত হৈ চৈ দেখে এই প্রশ্ন মনে জাগাটা অস্বাভাবিক কিছু না। ক্ষমতা যাদের আছে তাদের মৃত্যু সবাইকে শোকাহত করে। যাদের ক্ষমতা নেই তারা প্রতিদিন মরে ক্ষমতাবানদের হাতে তাই তাদের মৃত্যুগুলো স্বাভাবিক। তাদের মৃত্যুর জন্য কারু কোন শোক নাই। প্রতিবাদ নাই। মানুষ হত্যা অপরাধ। পুলিশেরা অপরাধী। বাংলাদেশের খুনীরা মানুষ হত্যার জন্য অপরাধী হিসাবে সাজা ভোগ করেনা। বরং ক্ষমা পেয়ে ফুলের মালা গলায় দিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়ায়, খোলা আকাশের নিচে মানুষকে হত্যা করে।  এই পুলিশের আরো কিছু বক্তব্যঃ
JPC

এই পুলিশ তার চরিত্র তার বক্তব্যে ফুটিয়ে তুলেছে। সুতারাং  মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।

 

72in24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.