ফার্মেসীগুলো ওষুধ তৈরি করে তা বিক্রি করে মুনাফা করার জন্য – রোগীর আরোগ্যলাভের উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিটি ফার্মেসীই এক একটি ব্যবসা প্রতিষ্টান। আর মুনাফা করার জন্যই ব্যবসা প্রতিষ্টানগুলো প্রতিষ্টিত করা হয়। একজন রোগী বারে বারে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ফিরে আসুক সেটাই কাম্য। যেকোন ব্যবসা প্রতিষ্টান চায় তাদের কাস্টমারেরা বারে বারে তাদের কাছে ফিরে আসুক আর তাদের থেকে পন্য কিনে তাদেরকে মুনাফা লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিক। ঠিক তেমনি ওষুধ কোম্পানীগুলো চায় রোগীরা বারে বারে তাদের কাছে ফিরে আসুক। এক রোগে আরোগ্য লাভ করে অন্য একটি রোগে আক্রান্ত হোক তারপর তাদের তৈরি নতুন ওষুধটি সেবন করে সুস্থ হয়ে অন্য একটি রোগে আক্রান্ত হোক আর ফার্মেসী বা ওষুধ কোম্পানীগুলো নানা রকমের ওষুধ সরবরাহ করে রোগীদের একের পর এক অসুখের মাঝে ভুগিয়ে এমন একটি রোগে আক্রান্ত করুক যার কোন ওষুধ নাই। যেমন কলকারখানা থেকে, নোংরা থেকে বাতাস দূষিত হয় আর সেই বাতাসে শ্বাস নিলে হাফানী হয়। হাফানীর কোন ওষুধ নাই। গরুর বা খাসির বা মুরগীর বা যেকোন পশুর মাংসে জমে থাকা রক্ত খাদ্য হিসাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং ক্যানসার হয় আর ক্যান্সার থেকে আরোগ্যলাভের কোন ওষুধ নাই।
সামান্য জ্বর বা শরীর ব্যাথা করলেই আমরা ওষুধ খাই। ওষুধের উপরে শরীরকে নির্ভরশীল করে তুলি ফলে নিজের শরীরের ক্ষতির বিনিময়ে ওষুধ কোম্পানীর মুনাফা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করা ছাড়া আর কিছু হয়না। মানুষের অসুস্থ্যতার কিছু কারণ থাকে সেই কারন খুজে বের করে সেই কারনকে নির্মুল করলেই অনেক ছোট খাটো রোগ নিজেরাই ভাল করা যায় । এতে খরচা কমে, শরীরের শক্তি, ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় আর অযথা একের পর এক অসুখে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা খাদ্যে বিষ মেশায়, বাংলাদেশের পুলিশেরা মানুষকে নির্যাতন করে পঙ্গু করে, বাংলাদেশের সরকার অনুমোদিত গুন্ডারা মানুষের উপরে নির্যাতন করে, এইসব অসুখ থেকে ভাল হবার কোন ওষুধ ফার্মেসীগুলা তৈরি করেনা। এইসব অসুখ থেকে আরোগ্য পেতে হলে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার একটাই ওষুধ তা হলো “ভালবাসা”। নিজেকে ভালবাসতে হবে আর নিজেকে যে ভালবাসে সে অন্যকে ভালবাসে, এবং দেশকে ভালবাসে।
ব্যবসা প্রতিষ্টানের সাথে ভালবাসার কোন সম্পর্ক নেই। মুনাফার সম্পর্ক আছে। অতীতে এত ওষুধ কোম্পানী ছিলনা। বিভিন্ন খাদ্য থেকেই মানুষেরা আরোগ্যলাভের উপায় খুঁজে নিতো। যেমন রসুন হৃদয়ের জন্য, আদা শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য, পানি শরীরকে পরিস্কার রাখার জন্য, লেবু শরীরকে মেদমুক্ত রাখার জন্য, কাঁচা মরিচ সর্দি, কাশী থেকে শরীরকে দূরে রাখার জন্য ইত্যাদিভাবে খাদ্যগুনগুলোকে ব্যবহার করা হতো রোগ প্রতিরোধের বর্ম হিসাবে। এছাড়া প্রতিটি খাদ্যেই রয়েছে বিভিন্ন রকমের রোগের নিরাময়। সুস্থ ও সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য প্রকৃতি অকৃপণভাবে ঢেকে দিচ্ছে সম্পদের সমাহার আর মানুষ সেই প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মুনাফা লাভের জন্য ফার্মেসীতে মেশিনের সাহায্যে তৈরি করছে আরোগ্যলাভের উপায়। আপনি কোনটা বেছে নিতে চান? ওষুধ নাকি খাবার? কোন ওষুধই ১০০% আরোগ্যলাভের গারান্টি দেবেনা। এক অসুখ থেকে অন্য অসুখের গারান্টি দেবে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামই শরীরকে সুস্থ রাখবে। শক্তিশালী রাখবে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সুস্থ রাখবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ হয়ে মরতে চান? নাকি সুস্থভাবে নিজের বিছানায় মরতে চান? ওষুধকে ঘৃণা করুন। খাদ্যগুনগুলো সম্পর্কে জানুন । আপনার শরীর সম্পর্কে আপনার চাইতে বেশী আর কেউ জানেনা। আপনিই আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেন। আপনার স্বাস্থ্যকে ওষুধ কোম্পানীর হাতে জিম্মি করে রাখবেন না।

