পুলিশের মোটর সাইকেলে করে কলেজ ছাত্রী অপহরণ!

দিনাজপুরে পুলিশের মোটর সাইকেলে করে এক কলেজ ছাত্রী অপহরণে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপহৃত কলেজ ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ওই পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনকে আসামি করে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে- দিনাজপুরের খানসামা থানার গোয়ালদিহি বিলাত আলী শাহ পাড়ার সানাউল্লাহ’র মেয়ে সুমি আকতার (১৬) চিরিরবন্দরের রানীবন্দরস্থ ইছামতি মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ২৫ জুলাই কলেজে শেষে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে উত্তর গোয়ালদিহি মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. জয়নুল (২৬) ও আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম (২৮) দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী মো. শাহীনের ডিসকভার মোটর সাইকেলে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় পুলিশ সদস্য শাহিন (৩৫) ও মোজাম্মেল হক (৪৫) নামে আরও একজন অপহরণকারীদের সহায়তা করে।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. শাহিন এখন বোচাগঞ্জ থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। শাহীনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে জানান, ব্যক্তিগত কাজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার পরিচিত এক যুবক মোটর সাইকেলটি চেয়ে নিয়েছিলো। অপহরণের কথা তিনি শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তার কর্মস্থল বোচাগঞ্জ থানা কিন্তু সেখানে কেনো গিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিএসবি পুলিশে থাকাকালীন খানসামা থানায় কর্মরত ছিলাম। সেখানে আমার অনেক পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাংখি রয়েছে। তাই মাঝে মাঝে সেখানে যাওয়া হয়।
এদিকে এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পুলিশ সদস্য শাহিন অধিকাংশ সময় রানীবন্দর ও পাকেরহাট এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানকার জাল টাকা ও জাল ডলার ব্যবসায়ী এবং অপরাধ চক্রের হোতাদের সঙ্গেই তাকে উঠাবসা করতে দেখা যায় বলে অনেকের অভিযোগ। পুলিশ সদস্য শাহিনের বিরুদ্ধে আরও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল হক প্রধান।
তিনি বলেন, দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে বিচারাধীন ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন পুলিশ সদস্য শাহিন।

আতিক/প্রবাস

৮ thoughts on “পুলিশের মোটর সাইকেলে করে কলেজ ছাত্রী অপহরণ!

Leave a Reply to Ðrêãm Wêãvêr Sûjõñ Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.