কবিরহাট: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নে এক স্কুল ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে রিয়াদ হোসেন নামের এক যুবক। আর এ ঘটনায় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষিতাকে ৭০হাজার টাকা ও ৩০টি বেত্রাঘাত প্রধান করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন ‘এটি একটি বৈশম্য বিচার।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, সোমবার রাতে চাপরাশিরহাট বাজার সংলগ্ন বিন্তী বাড়ীর বাসিন্দা ও চাপরাশিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) কে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে একই বাড়ীর ওজি উল্ল্যার ছেলে বখাটে রিয়াদ হোসেন। পরে বিষয়টি ভিকটিম তার পরিবারকে জানালে ভিকটিমের বাবা স্থানীয় চেয়াম্যান মহি উদ্দিন টিটুকে বিষয়টি অবগত করে। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে রাতেই ছেলে ও মেয়েকে তাদের বাড়ীতে আটক করে রাখে।
এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন টিটু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বিএসসি, আবু তাহের মেম্বারসহ কয়েকজন সালিশী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন টিটু মন্তব্য করেন, ভিকটিমের বাবা রাজমেস্ত্রী কাজ করে তার মেয়ের সাথে ধর্ষক রিয়াদের বিয়ে দিলে এ সম্পর্ক টিকবে না। পরে তিনি ধর্ষক রিয়াদ হোসেনের ৭০হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০ বেত্রাঘাত এবং ধর্ষিতাকে ৩০ বেত্রাঘাত ধার্য করেন।
এ সিদ্ধান্তের পরে ধর্ষিতাকে সালিশদারদের উপস্থিতে জাড়ু পেটা করে তার বাবা। কিন্তু ধর্ষক রিয়াদকে ধার্য করা ৩০ বেত্রাঘাতের মধ্যে ৪টি বেত্রাঘাত দেয়ার পর সে দৌঁড়ে পলিয়ে যায়।
এদিকে চেয়ারম্যানের এমন বিচারে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

