ঢাকা: বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্রুত সরকার পতনের আন্দোলন কর্মসূচি চাইলেও সে পথে হাঁটছেন না দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এজন্য আরো সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে। চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতির জন্য বিএনপির আরও সময় প্রয়োজন। খালেদা জিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে ৭ দফা প্রস্তাব দেয়া সেই সময় নেয়ার কৌশল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন। এতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন নতুন বছরের শুরুতে খালেদা জিয়া সরকার পতন আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে ৭ দফার প্রস্তাব তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার ৭ দফা প্রস্তাব দল ও জোটের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট যে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী, দলটির চেয়ারপারসনের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। আবার কেউ মনে করছেন, বেগম জিয়ার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়বে।
দলের তৃণমূলে একাধিক নেতাকর্মী আলাপকালে জানান, চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নিয়ে আমরা খুবই হতাশ। আমরা আশা করেছিলাম ম্যাডাম আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কিন্তু তা না করে ৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। যেখানে এই ফ্যাসিস্ট দখলদার আওয়ামী সরকার বলছে ১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। সেখানে তাদেরকে প্রস্তাব দেয়া ‘উলু বনে মুক্তা ছড়ানোর’ মতো। আমাদেরকে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। সেজন্য পরিস্থিতি আমাদেরকেই সৃষ্টি করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ম্যাডাম কঠোর আন্দোলনে যেতে আরো সময় নেবেন।
ওয়ারী থানা বিএনপি কর্মী কবির জানান, ম্যাডাম অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন সরকার পতনের কর্মসূচি দেবেন। আমরাও সে অনুযায়ী প্রস্তুত রয়েছি। কয়েকদিন ধরে আন্দোলনের একটা আবহ তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু ম্যাডাম আন্দোলনের কর্মসূচি না দিয়ে সরকারকে আবারো প্রস্তাব দেয়ায় নেতাকর্মীদের গতিতে ‘কিছুটা ভাটা’ পড়বে। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই বেশ কিছু সময় পার হয়ে যাবে। শীতকাল হচ্ছে আন্দোলনের উপযুক্ত সময়। শীতকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব করতে করতে শীতকাল শেষ হয়ে গেলে পরে আন্দোলন জমাতে বেগ পেতে হতে পারে।
তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘ম্যাডাম সরকারকে ৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এর সঙ্গে আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে আছে। যে কোনো সময় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ম্যাডামের বক্তব্যে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন একথা ঠিক। তবে ম্যাডাম একটি নির্বাচনমুখী বক্তব্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এমনটাই চায়। তাদের প্রেসক্রিপশনে ম্যাডাম এমন বক্তব্য দিয়ে থাকতে পারেন। আওয়ামী লীগকে প্রস্তাব দেয়া, এটা একটা কৌশল। মাড্যাম সেই কৌশলের আশ্রয় নিয়েই প্রস্তাব দিয়েছেন। বিএনপি জানে আওয়ামী লীগ সহজে প্রস্তাব মেনে নেবে না। তাই প্রস্তাব না মানার পর আন্দোলনে গেলে জনগণ আওয়ামী লীগকেই দোষারোপ করবে।
২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের মতে, জোট নেত্রীর বক্তব্যে কোনো হতাশা নেই। ৭ দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে সময় দিলাম, সরকার যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে তাহলে আমরা আন্দোলনে যাবো।’
৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন ব্যর্থ হলে দল গোছানোর জন্য এক বছর সময় নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এতো দিন একদফা সরকার পতনের আন্দোলনের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত ‘অবৈধ’ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ৭ দফা দিয়েছেন।
সুত্র-বাংলামেইল

