নবীনদের মধ্যে যারা পাচ্ছেন প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ

২০১৫ সালের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছেন নির্বাচকরা। তবে কেমন হবে বিশ্বকাপ দল এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের। আর ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন যারা তাদের মধ্যেও রয়েছে চাপা উত্তেজনা।

তবে সাকিব, মাশরাফি, তামিম, মুশফিকসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারদের দলে জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়েছেন এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন যারা আগে খেলেননি বিশ্বকাপের মঞ্চে। কিন্তু এখন বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানোর স্বপ্ন তাদের সামনেও হাতছানি দিচ্ছে।

প্রবাস নিউজের সঙ্গে কথা হলো এমন কয়েকজন ক্রিকেটারদের যারা প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের জাল বুনছেন। ঘাম ঝরাচ্ছেন বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নপূরণ করতে।

জুবায়ের হোসেন লিখন:
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে টেস্ট এবং ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে এই লেগ স্পিনারের। অভিষেকেই নজর কেড়েছেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে একজন লেগস্পিনার কতটুকু কাজে লাগবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। তবে এসব কিছুকে মাথায় রাখছেন না লিখন।

তার কথা, আমার ক্যারিয়ার সবে শুরু, আর লেগ স্পিন কঠিন বিষয়। নিজের উন্নতির কথা ভাবছি এখন। তবে চ‍ূড়ান্ত দলে যদি জায়গা পাই, তাহলে আস্থার প্রতিদান দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

১৯ বছর বয়েসী এই লেগ স্পিনার এ পর্যন্ত তিন টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। অন্যদিকে দুই ওয়ানডে খেলে ২ উইকেট শিকার করেছেন।

সাব্বির আহমেদ রুম্মন:
ওয়ানডে অভিষেকের আগে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল সাব্বির আহমেদ রুম্মনের। দলের বিপদে বুক চিতিয়ে লড়াই করার সামার্থ্যের কারণেই নির্বাচকদের নজরে ছিলেন অনেক আগেই থেকে। ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পথ চলা শুরু। খেলেছেন দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতেও। তার লেগ স্পিন দিয়ে মাঝে মাঝেই দলের জন্য কার্যকরী ভূমিকাও রাখতে পারেন সাব্বির।

তবে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে। ব্যাট হাতে নজর কেড়েছেন রাজশাহীর এই তরূণ। এই পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৮৩ রান, গড় ২৭.৬৬। পাঠক পরিসংখ্যান দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান মূলত খেলেন লোয়ার মিডল অর্ডারে। সুতরাং শেষ দিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে মারকুটে ব্যাটিংই করতে হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

তবে সাব্বিরকে এগিয়ে রাখছে তার যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাট করার মানসিকতা। ক্রিকেট মহলে যথেষ্ট সাহসী ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন সাব্বির আহমেদ। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার বিষয়টি পুরোই ছেড়ে দিয়েছেন নির্বাচকদের হাতে,

তার কথা, আসলে আমার কাজ হলো পারর্ফম করা, আমি তাই করার চেষ্টা করছি। বাকিটা নির্বাচক আর ভাগ্যের হাতে।

সৌম্য সরকার:
অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপে নজর কেড়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কোয়ার্টার ফাইনালে অজি অনুর্ধ্ব-১৯ এর বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৩ রানের অসাধারণ ইনিংস। তখন থেকেই আলোচনায় সৌম্য।
ইতিমধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে তার। একমাত্র ওয়ানডেতে করেছেন ২০ রান।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিসনে তার মিডিয়াম পেস বোলিংও বেশ কার্যকরী হতে পারে। সে বিবেচনায় নির্বাচকরা তাকে রেখেছেন প্রাথমিক দলে।

প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগেও দারুণ ফর্মে রয়েছেন বিকেএসপির সাবেক এই শিক্ষার্থী। পারর্টেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে খেলেছেন ১২৭ রানের দারুণ এক ইনিংস।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে ডাক পাওয়ার বিষয়ে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে সৌম্য বেশ পরিপক্কতার পরিচয় দিলেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে আগেও খেলেছি, তবে তা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। যদি আমি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাই তাহলে সেটা হবে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। একজন ক্রিকেটার হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আমার আছে।

আরাফাত সানি:
বাংলাদেশকে যদি বাঁহাতি স্পিনার তৈরির কারখানা বলা হয় তাহলে খুব একটা ভুল বলা হবে না। আরাফাত সানিও তার বাঁহাতি স্পিন দিয়ে নজর কেড়েছেন সবার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। এ পর্যন্ত খেলেছেন আট ম্যাচ। আট ম্যাচে নিয়েছেন ১৬ উইকেট।

বিশেষ করে সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। কিন্তু এতকিছুর পরও ২০১৫ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না ২৮ বছর বয়েসী এই বাঁহাতি স্পিনার। কারণ অস্ট্রেলিয়া- নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে স্পিনারদের চেয়ে দল বেশি নির্ভর করবে পেসারদের ওপর।

নির্বাচকরাও বলছেন চার পেসার এবং তিন স্পিনার নিয়ে দল গড়া হবে। সেক্ষেত্রে আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙে মূল লড়াইটা হবে সানির।

তবে এসব মাথায় রাখতে চান না আরাফত সানি, বললেন, নির্বাচকরাই সেরা বিচারক। তারা যাকে ভালো মনে করবেন তাকেই নেবেন। তবে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরতে প্রস্তুত আমি।

আতিক/প্রবাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.