ঢাকা মহানগর (দঃ) যুবলীগের সুত্রাপুর থানাধীন ৪৪ নং (সাবেক ৮০নং) ওয়ার্ড যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার সীমাহীন অত্যাচারে অত্র এলাকার জনগন অসহায় হয়ে পরেছে। তার অত্যাচার থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না, হউক সে হিন্দু- মুসলিম কিংবা তার দলীয় লোকজন ।
স্থানীয় একজন আওয়ামী নামধারী বড়ভাই ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্র ছায়ায় সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে । তার নিষ্ঠুর অত্যাচারের বর্ননা নীচে দেওয়া হলোঃ-
(১) ১৫ নং তনুগঞ্জ লেনে বসবাসকারী একজন হিন্দু মহিলাকে তার নেতৃত্বে খুটির সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় সেই মহিলার মেয়ের সামনেই। মহিলার অপরাধ সে তার বাড়িতে তার ন্যায্য হিস্যা দাবী করেছিলো। সেই বাড়ির আরেক অংশীদার মোটা অংকের টাকার বিনিময় সেই যুবলীগ নেতাকে ভাড়া করে। এই ঘটানা তৎকালীন সুত্রাপুর থানার ওসির মধ্যস্থতায় সমাধান করা হয়। পরবর্তীতে সেই মহিলা ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায় ।
(২) তনুগঞ্জ লেনের আরেক বিধবা মহিলা বেবী বেগম তার একমাত্র সম্বল স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়ী ১৬ নং তনুগঞ্জ লেনে একটি ডেভালপার কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে ভবন নির্মানের উদ্যোগ নিলে যুবলীগ নেতার চাদার দাবীর কারনে নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যায়, অসহায় সেই বিধবা মহিলা নিরুপায় হয়ে গোপনে বাড়ী বিক্রি করে এলাকা ছাড়েন ।
(৩) ৫/৩ জাস্টিজ লাল মোহন দাস লেনের স্থায়ী বাসিন্দা বায়তুল গাফফার জামে মসজিদের সাধারন সম্পাদক হাজী আব্দুর রউফের ছেলেদের ঐ যুবলীগ নেতা প্রায়ই মারধর করে, তাদের উপর প্রতিদিনই অত্যাচার চালায় । একদিন এমনই অত্যাচারের সময় চোখের সামনে ছেলেকে মার খেতে দেখে ও যুবলীগ নেতার হুমকীতে হাজী আব্দুর রউফ ষ্টোক করে মারা যায় । তারপরও অত্যাচার বন্ধ হয় নি।
(৪) ঐ এলাকার আরেক স্থায়ী বাসিন্দা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির বড় ভাই ৩৯/২/১ নং জাস্টিজ লাল মোহন দাস লেনে বসবাসকারি মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা জনাব হাবিবুল হাসান গামা সাহেবের ছেলে উল্লাস হাসানকে তার পিতার সামনেই নিষ্ঠুর নির্যাতন করে রক্তাত্ব করে ঐ যুবলীগ নেতা ।
(৫) সুত্রাপুর নতুন রাস্তা ও বানীয়ানগর নতুন রাস্তায় অবস্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টানে কিছুদিন পুর্বে সেই যুবলীগ নেতার নেতৃত্ব তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়িরা মাসিক মাসোহারা দেওয়ার অঙ্গীকার করে রেহাই পায়।
(৬) তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও । কিছুদিন পুর্বে সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায় অত্র ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব নিজামউদ্দিন নিজামের উপর, হামলায় নিজামউদ্দিনের অফিস তছনছ হয়ে যায়, গুরুত্বর আহত হয় নিজামউদ্দিনের কর্মী মানিক। পরে মানিকের মাথায় ১৭টি সেলাই পরে।
উক্ত যুবলীগ নেতার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড সভাপতি হয়েও অসহায় নিজামউদ্দিন সেখানে সাধারন মানুষের অবস্থা কতটা করুন তা বুঝা যায় ।
তার হুমকি, ধমকির কাছে আজ সবাই অসহায় কারনঃ-
== তার আছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী যে বাহিনী দ্বারা সে কাঠেরপুল এলাকায় ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে।
== আমরা জানি যে, এলাকায় পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃত্ব থাকে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা, এমনকি পঞ্চায়েতের সদস্যও হয় স্থানীয়রা কিন্তু সেই যুবলীগ নেতা একজন ভাড়াটিয়া হয়েও জোর করে পঞ্চায়েত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দখল করে নেয় ।
== ঢাকা মহানগর (দঃ) যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট বিরোধী একজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে সে এতো বেপরোয়া। ঐ নেতার সুপারিশে ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান খান দিপুর ইচ্ছায় যোগ্যতা না থাকা সত্বেও, ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে সে ন্যাশনাল হাসপাতালে একটি চাকুরী বাগিয়ে নেয় ।
== শোনা যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে তার সখ্যতা অনেক বেশী। আরও শোনা যায় এক সময়ে সে বিএনপির রাজনীতির সাথেই জড়িত ছিলো অথচ এখন তার কাছে ত্যাগী ও পুরানো আওয়ামী লীগাররা অসহায়।বিএনপির সাথে সুসম্পর্কের কারনে বিরোধীদল থাকা কালীন অবস্থায়ও তার নামে কোন রাজনৈতিক মামলা হয়নি সেই সময় ।
তার অত্যাচার ও নীরব চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পেতে পথ খুজছে এলাকাবাসী, ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো এলাকা । যথা সময় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় গন বিস্ফোরণ ঘটতে পারে ।
অতএব, সাধু সাবধান

