পুরাতন ঢাকার পরিক্ষীত পরিজন – আবু মোঃ মাঈনু উদ্দিন মাঈনু

নাসিমুল গনি খানঃ সেই জাগোদল থেকেই জিয়াউর রহমানকে দেখে যার রাজনীতির শুরু … তখন ছিলেন সাধারন এক কর্মী। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে যিনি এখনো রয়েছেন … রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে সংগ্রামে ছিলেন এবং আছেন। যার ফলে বারবার কারগারে নিক্ষিপ্ত হয়ে হয়েছেন।তারপরও তিনি রয়েছেন পুরাতন ঢাকার প্রতিটি জনগনের হ্নদয়ের মনিকোঠায়।
তিনি আর কেউ নয় … সত্যিকার জিয়ার প্রেমিক শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্টাতা আহবায়ক আবু মাঈনুদ্দিন মাইনু …শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাত ধরে বিএনপি গঠিত হয় ১৯৭৮ সালে … সেই সময়ের গঠনতন্ত্রে ওয়ার্ড ও মহানগর কমিটি ছিলো …মাইনুউদ্দিন মাইনু তৎকালীন কোতোয়ালী থানার ২২ নং,পরে ৭১ নং, বর্তমানে ৩৫ ওয়ার্ড এর মুলদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসাবে কাজ শুরু করেন । পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সারা দেশে থানা কমিটিও গঠনের সিদ্বান্ত নেন তখন ঢাকার বৃহত্তর কোতোয়ালী থানা প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসাবে সফল ভাবে তার দায়িত্ব পালন করেন ।

স্বৈরাচার এরশাদ যখন ক্ষমতা দখল করেন সেই সময় এস,এ খালেকের বিউটি সিনেমা হলে হুদা-মতিন,ওবায়েদুর রহমান “তলবী সভা” করে বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করে মহানগর অফিস দখল করেন … তখন এই মাইনুদ্দিন মাইনুর নেতৃত্বে সেই সময় নয়াবাজার ডিআইটি মার্কেটে অবস্থিত ঢাকা মহানগর বিএনপি অফিস পুনরায় দখল নেয় … পরে গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে পুনরায় উদ্ভোধন করান। সেই সাথে গৃহবধু খালেদা জিয়াকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সকলে মিলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে নতুন উদ্যমে বিএনপির কার্যক্রম চালু করেন ।

১৯৮৮ সালের বন্যার সময় যখন সারা ঢাকা সিটি পানিতে তলিয়ে যায় তখন মাইনুর নেতৃত্বেই ঢাকা সিটিতে সর্বপ্রথম কোতায়ালী থানার ইংলিশ রোডে একটা দুর্গতদের সাহায্য ক্যাম্প খুলে বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে দুর্গতদের মাঝে রিলিফ বিতরন করালে সেটা সেই সময়ের বহুল প্রচারিত পত্রিকা “ইনকেলাব” প্রথম পৃস্টায় বড় আকারে সচিত্র খবর প্রকাশ করে . যা খুব আলোচিত হয়, এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পরে … এরপরে ঢাকা সিটির সব এলাকায় নেত্রীকে দিয়ে রিলিফ বিতরন শুরু হয় ।

মীর শওকত আলীকে সভাপতি ও সালাউদ্দিন আহমেদকে সাধারন সম্পাদক করে ১৯৮৯ সালে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হলে সেই কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন মাইনুউদ্দিন মাইনু …
৯০ এর আন্দোলন এই পুরাতন ঢাকার মানুষ রাজপথে নেমে মীর শওকত আলী ও সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে নয়াবাজার (ঢাকা মহানগর বিএনপি অফিস) থেকে আন্দোলন গরে তুলেছিলেন … সেই সফল আন্দোলনের তিনি একজন সফল রুপকার হিসাবে পরিগনিত … যার কারনেই এরশাদ পতন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সর্ব প্রথম রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা …

৯০ এর আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন গুলিস্তানকে ” গনতন্ত্র চত্বর” ঘোষনা দেন এই ঐতিহাসিক মঞ্চ তৈরি করা থেকে পুরো অনুষ্টানটি পরিচালনা করেন মাঈনু ।। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও দেশনেত্রীর প্রায় শতাধিক সমাবেশ পরিচালনা করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মাঈনউদ্দিন মাইনুর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয় এবং ৩ বার গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১ বছর জেলবন্ধী ছিলেন ।

ভয়াবহ ১/১১ সময় তিনি সর্ব প্রথম ঢাকার নেতা হিসাবে সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাথে সাক্ষাত করে দলের কাজ শুরু করেন – কঠিন সেই সময়ে নয়াবাজার বিএনপি অফিসে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরন ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন …১/১১তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বন্ধি তখন মাঈনু ভাইয়ের নেতৃত্বে সকলকে নিয়ে ১ দিনের রোজা কর্মসুচী সফলভাবে পালন করেন । এছাড়া দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য মাঈনু ভাইয়ের নেতৃত্ব হাজার হাজার গনস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যলয় ও ঢাকার ডিসি অফিসে নিজে জমা দেন । এছাড়া সেইসময় প্রশাসনের ভয়ে যখন কেউ বিএনপির একটা পোস্টার লাগাতে সাহস করে না… তখন দেশনেত্রী ও তারেক রহমানের মুক্তির লক্ষ্যে পোস্টার নিজ হাতে ঢাকার বিভিন্ন অলি-গলিতে লাগান । বিএনপির বিভিন্ন কর্মসুচীতে সরব উপস্থিত থাকার ফলে ১/১১ এর সরকারের পুলিশ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে … সাড়ে ৩ মাস জেলবন্ধি থাকার পর মুক্তি লাভ করেন ।

সাদেক হোসেন খোকা ও আব্দুস সালাম নিয়ে গঠিত ঢাকা মহানগর কমিটিতে মাঈনউদ্দিন মাঈনু ১ নং সহ-সাধারন সম্পাদক ছিলেন । কিন্তু দুঃখজনক এই যে, পরবর্তীতে ২ বার ঢাকা সিটির আহবায়ক কমিটি গঠিত হলেও তাকে কমিটিতে রাখা হয় নাই … বর্তমানেও তাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করছেন অনেকেই ।

আসলে কিছু দালাল ও অযোগ্য নেতাদের কারনে যোগ্যতম নেতা কর্মীরা সরে যায় রাগে, অভিমানে … তখন ক্ষতি হয় দলের … আমার জানা এবং দেখা মতে অনেকেই আছেন যারা এখন রাগে অভিমানে সমর্থক হয়ে বসে আছেন অথচ তাদের দলের প্রতি ত্যাগ,শ্রম, বিনিময় বর্তমান বিএনপি । তাই হারিয়ে যেতে দিয়েন না যোগ্যতম অকেতুভয় জিয়ার এই সৈনিক .।

মাঈনউদ্দিন মাইনু ঢাকার স্থানীয় ও আদি ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান । তার পরিবারের দাদার দাদা থেকে বসবাস এই আদি ঢাকায় ….সেই কারন তাদের পরিবারের ঢাকায় অনেক আত্বীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অবস্থান করেন … সোজা কথা একটা ঢাকা মহানগরীতে স্থায়ী বাসিন্দার বিশাল একটা জনগুষ্টির বসবাস …তাই এদের কারও উপর আঘাত করতেও সরকারের লোকজনও ভয় পায় …………।

বর্তমান সময়ে মহানগর রাজনীতিটা অনেকটা জটিল হয়ে পড়েছে … লবিং করে পদ নিতে হয় … আরও আছে বিশেষ করে ওমুখ ভাই কিংবা ইজম তৈরির রাজনীতি … এই সব কিছুকে উদ্ধে রেখে সরকার বিরোধী আন্দোলন এবং দেশের কেন্দ্রস্থলের এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটকে শক্তিশালী করার দিকটি মাথায় রেখেই নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে …কারন ঢাকায় আন্দোলন সফল না হলে ফলাফল শূন্য—সেই হিসাবে মাঈনুদ্দিন মাইনু অত্যান্ত শক্তিশালি ঢাকা মহানগরী দক্ষিন এলাকাগুলিতে … আর পুরাতন ঢাকার নেতৃত্ব দিতে হলে মাঈনুদ্দিন মাইনুর কোন বিকল্প নাই …

আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে মাঈনুদ্দিন মাইনুর মত জনপ্রিয়, কর্মীবান্ধব, আন্দোলনমুখি, ত্যাগী নেতার দ্বারাই সম্ভব এই হায়েনা সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া ……।

৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-র মুক্তিযুদ্ধ ও সর্বশেষ স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের সূচনাই হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। তাই ঢাকায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঈনুদ্দিন মাইনুদের মত নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা উচিত.।

জিখান/প্রবাসনিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.