তাহলে কি আমরা ধরে নেবো,আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের কোন মূল্য নেই? পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হবে আমাদের? আজ ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছিল বাঁশখালীর গন্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনায়। কেন ? কারণ কি ? ১৪৪ ধারা বৃটিশ আমল থেকেই জারী করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। বৃটিশেরা এই আইন করেছিল । এই আইন কেউ ভঙ্গ করলে গুলি করে তাদের গুলি করবে বলে । পাকিস্তান আমলেও এই আইন জারী করে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য তখন পাকিস্তানের সামরিক সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী গুলি চলার আগে শেখ মুজিবকে নিরাপদে জেলে নিয়ে রাখা হতো আর বাদবাকী মানুষের উপরে চলতো গুলি। এইভাবেই পাকিস্তানের সামরিক সরকার শেখ মুজিবকে নিরাপত্তা দেয় ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী পর্যন্ত। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিব আর ডঃ কামাল হোসেন পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিল দলের গোপালভাঁড়দের পশ্চিম বাংলার সোনাগাছিতে পাঠিয়ে দিয়ে। গুলি খেয়েছে সাধারণ মানুষ। কোথাও যারা পালাতে পারেনি। শুধু শেখ মুজিবের পরিবারের সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে এই বাংলাদেশেই গনহত্যা চালায় পাকিস্তানের সামরিক সরকার।
শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে যাতে ওরা বাংলাদেশের মানুষের উপরে গুলি চালানো অব্যাহত রাখতে পারে। আজ কেনো পাখীর মত করে মানুষ হত্যা করা হলো গন্ডামারার পশ্চিম বড়ঘোনায়? কেনো ? হিসাব করেন আজ পর্যন্ত পুলিশ, র্যাব, বিএসএফ, বিজিবি, গুন্ডা দিয়ে মোট কতজন মানুষকে হত্যা করলেন? হিসাব করে দ্যাখেন সেই হিসাবের সাথে আপনাদের বাপবেটির ৩০ আর ৩১ লাখের হিসাব মিলে গেলেও মিলে যেতে পারে। সব চাইতে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো বাঁশখালীর গন্ডামারা পশ্চিম বড় ঘোনাতে যারা আজ শহীদ হলেন তাদের সবাই আওয়ামীলীগের কর্মী ও সমর্থক বা তাদের সন্তান।
এই প্রথম আওয়ামীলীগের একজন সদস্য এতগুলো আওয়ামীলীগের কর্মী, সমর্থক ও তাদের সন্তানের উপরে গুলি চালিয়ে হত্যা করলো। আওয়ামীলীগের সদস্যরা আওয়ামীলীগের সদস্যদের উপরে আগেও গুলি চালিয়েছে, হত্যা করেছে কিন্তু এভাবে নিরীহ গ্রামবাসী নারী পুরুষের উপরে গুলি চালিয়ে হত্যা এই প্রথম। মানুষ হত্যা করার অধিকার আওয়ামীলীগের নাই। এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।
বাঁশ খালীর গন্ডামারার পশ্চিম বড়ঘোনায় সাইফুল আলম মাসুদ একটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করছে। সাইফুল আলম মাসুদ আওয়ামীলীগের একজন সদস্য সুতারাং একজন শিল্পপতি। সাইফুল আলম মাসুদের অনেক টাকা অনেক সম্পদ অনেক ব্যবসা এখন হঠাৎ করে এই গ্রাম বিধ্বংসকারী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেবার অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা আর কাঁচামাল হিসাবে কয়লা আসবে ভারত থেকে আর কয়লা উৎপাদনের সহযোগীতা করবে চীন। সোনায় সোহাগা। চীনের অংশীদারিত্ব রয়েছে কিছু, এছাড়া চীন থেকে দক্ষ শ্রমিকেরা এসে এই প্রকল্পে কাজ করবে আর স্থানীয় মানুষজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তেমন বেশী শ্রমিকের দরকার হয়না। ভারত থেকে কয়লা আসবে নদী পথে আর ধূলোধুষোরিত হবে বাশখালির আকাশ। সেই কয়লা এনে জমা করা হবে নদীর পাড়ে। সবুজ বলে কিছুই থাকবেনা এই এলাকাতে। কয়লা উৎপাদন শুরু হলে দিনরাত কয়লা পুড়বে তখন ই শুরু হবে আর এক গনহত্যা। আগে আওয়ামীলীগের পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, গুন্ডা, বিএসএফ হত্যা করেছে এইবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস হত্যা করবে পরিবেশ আর পরিবেশের উপর নির্ভরশীল প্রানীদের । আর এই প্রানীদের ভেতরে আওয়ামীলীগের হাজার হাজার সদস্যরাও থাকছে। বাঁশ খালীর গন্ডামারার পশ্চিম বড় ঘোনা হয়ে যাবে মানুষের বসবাসের অযোগ্য হবে আর আশেপাশের গ্রামেও এই বিষাক্ত বাতাস ছড়িয়ে শ্বাসরোধ করবে গ্রামের মানুষের। যারা পালিয়ে যাবে তারা আর কোথায় যাবে? ভিটে ছেড়ে যাওয়া মানুষ পথে পথে ঘুমাবে। বা ইয়াবা বিক্রি করবে। সেটাই আর এক এস আলমের পূঁজি বৃদ্ধির সহায়ক হবে।
উপরের তথ্যের ভিত্তিতে এই কয়লা বিদ্যুতের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন হয়নি। কারণ এই তথ্য এলাকাবাসীর জানা নাই। সাইফুল আলম মাসুদের প্রতিদ্বন্দ্বী আর একজন আওয়ামীলীগের সদস্য আন্দোলন করেছিল শত্রুতামূলকভাবে, জনকল্যানের জন্য নয়। শাপে বর হয়েছে। সেই প্রতিদ্বন্দ্বী টাকা খেয়ে আন্দোলন বন্ধও করে দিয়েছিল । কিন্তু গ্রামের মানুষ বুঝে গেছে এই দুইজনের কুমতলব। সেদিন সাইফুল আলম মাসুদের ছোটভাই যখন গ্রামে আসে তখন গ্রামের মানুষ তাকে ও তার সংগীদের আটক করে। তাদের মটর বাইক জ্বালিয়ে ভেঙ্গে পানিতে ফেলে দেয়। সাইফুল আলমের ছোটভাই গ্রামের মানুষের কাছে মাফ চেয়ে বিদায় হয়।
আজকের গুলি চালাবার ঘটনা ছিল নিছক গ্রামবাসীকে ভয় দেখাবার জন্য। আজকের বাঁশখালী গন্ডামারার পশ্চিম বড়ঘোনার ম্যাসাকার ছিল গ্রামবাসীকে ভয় দেখাবার জন্য যে যদি এরা প্রতিবাদ করে তাহলে এইভাবে সবাইকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হবে।
তাহলে কি দাঁড়ালো ? প্রতিবাদ করলেও গুলি খেয়ে মরবেন আর প্রতিবাদ না করলে কয়লা থেকে নির্গত কার্বণের বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসের দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরবেন, ক্যান্সারে মরবেন, হৃদরোগে মরবেন, ধ্বংস হবে আবাদি, এত বছরের সবুজ শ্যামল গ্রাম। এখন সিদ্ধান্ত নেবে গ্রামবাসী। কিভাবে মরতে চান ? বুলেট নাকি বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস ??
আজ যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ভেতরে রয়েছেন পাঁচজন মহিলা। এই মহিলাদের মধ্য একজন কিশোরীও রয়েছেন।
জানাজা পড়ার জন্য বা শোক করে কান্নাকাটি করার জন্য আমি লিখছিনা। জানাজা পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষ। লাশ গুনতে গুনতে ভেঙ্গে গেছে পরিবারগুলো। বিদ্যুতের মত জানাজা আর কাফণের ব্যবসাও বাংলাদেশে একটি লাভজনক ব্যবসা।
এখন সিদ্ধান্ত নেবার পালা — সাইফুল আলম মাসুদের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পকে বাশখালী থেকে উপরে ফেলার পালা। সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পালা কুত্তাদের সবাইকে বাঁশখালী থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় দেবার পালা আর বাংলাদেশে যেহেতু কোন আইন আদালত বিচার বিভাগ নাই তাই যারা গুলি চালিয়েছে তাদের শাস্তি দেবার দায়িত্ব বাঁশখালীর জনগণের।
আল্লাহ্ আপনাদের সহায় হউন।









