প্রতিদিন পত্রিকাতে বুড়া বুড়া নেতাদের মুখে শেখ হাসিনার সমালোচনা পড়লে হাসি পায়। নিজেদের স্বার্থে টান পড়লেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আশ্চর্য !! বাংলাদেশে প্রতিদিন অন্যায় হচ্ছে, অপরাধ হচ্ছে, এতকাল চোখ বন্ধ করে নাকে তেল দিয়া ঘুমাইতেছিলেন নাকি অথবা বিএনপীর সালাউদ্দীন আহমেদের মত পাগল হবার ভান করে যদি থাকতেন তাহলে হয়তো কিছু দায় দায়িত্ব থেকে রক্ষা পেতেন। দেশে তৃতীয় শক্তির উত্থান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল জাসদ (রব) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট এসিলাহা মিলনায়তনে দলের বাগেরহাট জেলা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, তারা জোর করে ক্ষমতায় আঁকড়ে আছেন। এভাবে জোর করে কতদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে? তিনি বলেন, দেশের সব কিছু শেষ করে দেয়া হয়েছে।
মুজিবের আমলে আ স ম আব্দুর রব মুজিবের পক্ষে ভোট ডাকাতি করেন। ভুলে গেছেন ? তখন সেই ভোট চুরি জায়েজ ছিল? এখন হাসিনা ভোট ডাকাতি করলেই যত দোষ !!
মুজিবের আমলেও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ছিলনা। সে কথাও ভুলে গেছেন জনাব আব্দুর রব। বয়স হবার কারনেও এই ভুল হতে পারে।
আওয়ামীলীগ থেকে বের হয়ে এসে জাসদ করার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল। চুরি, ডাকাতির ভাগে কম পেয়ে আওয়ামীলীগ থেকে বের হয়ে আসেন দুই খলিফা জনাব শাহ জাহান সিরাজ ও জনাব আ স ম আব্দুর রব।
জনাব রব অভিযোগ করেছেন যে হাসিনার আমলে নাকি তথ্য মন্ত্রণালয় একটা সেল করেছে আর তাদের কাছ থেকে পারমিশন নিতে হয় সাংবাদিকেরা কি লিখতে পারবেন, কি ছাপতে পারবেন। মুজিবের আমলে তো সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মুজিবের আমলেও যারা মুজিবের তোষামোদ করে লিখবে তাদেরকেই পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সে সম্পর্কে কিছু বললেন না কেনো? শেখ হাসিনা বাপের আদর্শে দেশ চালাচ্ছে। সমালোচনা করার কিছু নাই। শেখ হাসিনা মুজিবের মত দেশ চালাবে এটা সবারই জানা ছিল। মুজিবকে যদি আপনারা ভালবেসে থাকেন তাহলে হাসিনাকেও ভালবাসেন। আজ যা কিছু হচ্ছে তা বিগত ৪৩ বছর ধরেই হয়েছে। আজ কেনো মুখ খুললেন ? শেখ মুজিবের আমলেও প্রতিবাদ মিছিল করা যেতোনা। সেজন্য আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক দল করা হয়েছিল। তখন জাসদও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক দলই ছিল।
মরার আগে জনাব রবের উচিৎ হবে শেখ মুজিবের গুন্ডা ও রক্ষীবাহিনীর হাতে কতজন জাসদের নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে সে হিসাব দেওয়া। শেখ মুজিবও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল আর সেই সাথে তখনকার আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ।
১৯৭১-৭৫ সালে যা কিছু হয়েছে, শুধু মুক্তিযুদ্ধ বাদে এখন সেইসব কিছুই হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষন, দুর্ণীতি সবই আগের মত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের নয় মাসে লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে বাংলাদেশী হত্যা করা হয়েছিল, এখন সে কাজ বিএসএফ করছে প্রতি চার দিনে একজন বা দুইজনকে গ্রামে এসে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করছে। ১৯৭২-৭৫ সালে গ্রাম ঘেরাও করে জাসদের কর্মিদের, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির কর্মীদের হত্যা করে রক্ষীবাহিনী, এখন হত্যা করা হচ্ছে বিএনপি, জামাত শিবিরের সদস্যদের। তখন দলে দলে হত্যা করা হয়েছিল এখন কিস্তিতে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। মাহমুদুর রহমান জেলে আছেন বহুদিন হয়ে গেছে, বহুবার জেলে গেছেন তিনি, জেলেই তিনি মারা যাবেন। সেসব কথা তো বললেন না জনাব আ স ম আব্দুর রব। সেই একই ঘটনা বারে বারে ঘটছে। গনহত্যা চলছে। চলবে। শেখ মুজিব, শেখ মুজিবের পরিবারের কেউ বা আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতারা কেউ মুক্তিযুদ্ধ না করেই পাকিস্তান ও ভারত থেকে ফিরে এসে সরাসরি ক্ষমতায় বসে গেলো — সেটা নিয়ে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করেননি। এত বছর রাজনীতি করে, এত পড়ালেখা শিখে পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীর পিতা তখনই হতে পারে যখন এক দল লোকের মুখের ভেতরে টাকা গুজে দেওয়া হয়। আ স ম আব্দুর রবের গাল ফুলে থাকার কারণ সেটাই।
মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেবার জন্যই বাকশাল করা হয়েছিল। পুরানা বুড়া বুড়া নেতারা মুজিবের সমালোচনা করেনা। ১৯৭১ সালের গনহত্যার কথা সবাই বলে কিন্তু ১৯৭২-৭৫ সালের গনহত্যার কথা কেউ বলেনা। কারণ জাসদ করার আগে আওয়ামীলীগের সাথে মিলে মিশে জনাব রবেরা অনেক দুর্নীতি করেছেন। এখন সেসব ভুলে গেছেন। ১৯৭২-৭৫ সালের অপরাধের উপরে ভিত্তি করেই আজকের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
জাসদ ভেঙ্গে আবার আওয়ামীলীগে যোগ দিন তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।


probasnews24.com liked this on Facebook.
Moin Ahmed liked this on Facebook.