কানাডাতে সাধারণ নির্বাচন

কানাডাতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে ১৯শে অক্টোবর ২০১৫। এই নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, সেগুলো হলোঃ

  • এ্যালাইয়েন্স অফ দ্য নর্থ

  • এনিম্যাল এলাইয়েন্সে এনভাইরনমেন্ট ভোটার্স পার্টি অফ কানাডা
  • ব্লক কুইবেকুয়া
  • কানাডা পার্টি
  • কানাডিয়ান এ্যাকশন পার্টি
  • খ্রিষ্টিয়ান হেরিটেজ পার্টি অফ কানাডা
  • কমিউনিস্ট পার্টি অফ কানাডা
  • কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডা
  • ডেমোক্রাটিক এডভান্সমেন্ট পার্টি অফ কানাডা
  • ফোর্সেস এট ডেমোক্রাটস
  • গ্রীন পার্টি অফ কানাডা
  • লিবারেল পার্টি অফ কানাডা
  • মেরাজুয়ানা পার্টি অফ কানাডা
  • মার্কিসট লেনিনিস্ট পার্টি অফ কানাডা
  • নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি
  • পার্টি অফ একাউন্টেবিলিটি, কম্পিটেন্সি এন্ড ট্রান্সফারেন্সি
  • পাইরেট পার্টি অফ কানাডা
  • প্রগ্রেসিভ কানাডিয়ান পার্টি
  • রাইনোসোরস পার্টি
  • সিনিয়রস পার্টি অফ কানাডা
  • দ্যা ব্রিজ পার্টি অফ কানাডা
  • ইউনাইটেড পার্টি অফ কানাডা
  • এই সকল রাজনৈতিক পার্টির কোন কর্মী বা নেতা সারাক্ষন যদি সরকারে সমালোচনা করে তাহলেও কারুকে ভুয়া মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়না, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়না, বাসায় যেয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়না, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের সাথে যেসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রাতদিন চালানো হয় তার কিছুই কানাডাতে হয়না। নির্বাচনী এলাকাতে কোন পুলিশ দেখা যায়না। অবশ্য পুলিশেরা ভোট দিতে আসলে হয়তো ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় আসে। যাই হোক যে দুইটি রাজনৈতিক দল এখন সব চাইতে জনপ্রিয় সেগুলো হলোঃ কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডা ও লিবারেল পার্টি অফ কানাডা – এই দুইটি পার্টি এখন তুমুল প্রতিযোগীতা করছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন পার্টি কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডার নেতা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী Stephen Harper স্টিফেন হার্পার ও লিবারেল পার্টি অফ কানাডার নেতা Justin Trudeau জাস্টিন ট্রুডো। shandTr ট্রুডো এবং হার্পার

    কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী প্রতিজ্ঞা হলো — নেকাব নিষিদ্ধ করা। হার্পার যদি পুনঃরায় নির্বাচিত হয় তাহলে কানাডা থেকে নেকাব নিষিদ্ধ করবে। হার্পারের ভাষ্য অনুযায়ী নেকাব হলো নারী বিরোধী হাতিয়ার। এই বক্তব্য দেবার পরে কানাডিয়ান মুসলিমরা তীব্র প্রতিবাদ করে এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে। অন্যদিকে লিবারেল পার্টি অফ কানাডার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পদপার্থী জাস্টিন ট্রুডোর নির্বাচনী প্রতিজ্ঞা হলো –কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, ইমিগ্রান্টদের দেশে ফেলে আসা অপেক্ষারত পরিবারগুলোর কানাডাতে আসার দরখাস্তগুলোকে দ্রুত প্রসেস করে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া। স্টিফেন হার্পারের কনজারভেটিভকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে কানাডার মিলিটারী শান্তিরক্ষাবাহিনী থেকে শান্তিবিনাশ বাহিনীতে পরিনত হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন। নেকাব বিরোধী বক্তব্য জাস্টিন ট্রুডো মনে করেন যে কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হার্পার ব্যর্থ হয়ে এখন নেকাবের পেছনে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। হার্পার নির্বাচিত হলে সরকারী অফিসগুলোতে নেকাব নিষিদ্ধ করবে। দুইজন মুসলিম নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব পাবার দিনে তাদের মুখের উপর থেকে আবরণ বা নেকাব উঠাতে অস্বীকার করলে তাদেরকে নাগরিক শপথ অনুষ্টান থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারা তখন আইনের আশ্রয় নেয় এবং মামলাতে জয়লাভ করে। এই ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার। আর সেটা নিয়েই স্টিফেন হার্পার নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছে। কানাডা একটি মাল্টিকালচারাল রাস্ট্র। এখানে যার যার ধর্ম পালন করা ও ধর্মীয় রীতি অনুসারে পোষাক পরিধান করতে কোন বাঁধা নেই।

    ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা অনুসারে কানাডাতে রোমান ক্যাথলিকেরা সংখ্যাগরিষ্ট । ইতালিয়ান,স্প্যানিশ ও সাউথ আমেরিকান দেশগুলো থেকে আসা ইমিগ্রান্টসরা বেশীর ভাগ রোমান ক্যাথলিক।
    মোট জনসংখ্যার মধ্য

  • ২৩.৯% হলো সব ধরনের খ্রিষ্টান।

  • ৩.২% মুসলিম
  • ১.৫% হিন্দু
  • ১.১% সিক
  • ১.০% ইহুদী
  • ১.০% বৌদ্ধ
  • ০.৬% অন্যান্য ধর্ম
  • ০.৪% কোন ধর্মে বিশ্বাসী না
  • কানাডাতে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে অনেক স্কুলে নামায পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রীকে সময় দেওয়া হয় এবং নামাযের জন্য আলাদা স্থান ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারী ও সরকারী এজেন্সীগুলোতে স্টাফদের জন্য নামাযের সময় ও স্থান দেওয়া হয়। অনেক এলাকাতে মসজিদ আছে। মসজিদে বাচ্চাদের নেবার জন্য বাস আছে। তবে অভিভাবকদেরকে দায়িত্ব দেওয়া আছে বাচ্চাকে বাসে উঠানো ও নামিয়ে নেবার জন্য বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। যেসব অভিভাবকেরা কর্মজীবি তাদের পক্ষে এই সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়না। সমগ্র কানাডাতে প্রায় সব সুপার মার্কেটেই হালাল খাবারের একটি ডিপার্টমেন্ট আছে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক। কারণ হালাল খাবারের দাম অপেক্ষাকৃত বেশী। অনেক মুসলমান নেকাব পরিধান করেন। অনেক মুসলমান বোরখাঁ পরিধান করেন। অনেক মুসলমান দাঁড়ি রাখেন ও নিয়মিত মসজিদে যেয়ে নামায পড়েন। স্টিফেন হার্পারের এই নেকাব বিরোধী নির্বাচনী প্রচার নির্বাচনে জয়লাভে বাধার সৃষ্টি করতে পারে বা অনেক প্রার্থি জাস্টিন ট্রুড়োকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর কারণ যে সবাই মুসলিম ও নেকাব সমর্থন করে তা নয়। এর কারণ হলো স্টিফেন হার্পার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আগ্রহ না দেখিয়ে নিজের অযোগ্যতা প্রমান করছে অমুসলিম কানাডিয়ানদের কাছে। নেকাব কানাডার জাতীয় সমস্যা নয়। এটা আদৌ কোন সমস্যা নয়। কানাডার মাত্র ৩.২% মুসলমানদের মধ্য সবাই মহিলা নন এবং নেকাব পরিধান করেননা। যদি সবাই মহিলা হতেন এবং নেকাব পরিধান করতেন তাহলেও “নেকাব” কানাডার সমাজ, অর্থণীতি, রাজনীতিতে কোন সমস্যা সৃষ্টি করতোনা। এই ধরনের ইস্যু কানাডার মত মাল্টিকালচ্যারাল দেশে বড্ড বেমানান ও কানাডার চার্টার অফ রাইটস এন্ড ফ্রিডমস বিরোধী। কানাডার চার্টার অফ রাইটস এন্ড ফ্রিডমস অনুযায়ী প্রতিটি কানাডিয়ানের অধিকার আছে তাদের নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী মুখ ঢাকার বা মুখ খুলে রাখার ও যার যার নিজের ধর্ম পালন করার। যে ধর্ম পালন করলে সমাজে অন্য কারু কোন রকমের আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, মানসিক ক্ষতি না হয়। বোরখাঁ বা নেকাব বা হিজাবকে ঘৃনা করা সাম্প্রদায়িতকতা। ধর্ম, বর্ণ, জাত, ইত্যাদির কারণে কারুকে ঘৃনা করা একটি অপরাধ বলে গন্য করা হয়। এই অপরাধ প্রমানিত হলে জেল, জরিমা্না হতে পারে। স্টিফেন হার্পার নিজের অযোগ্যতাকে বার বার প্রমান করে নিজেই নিজেকে পরাজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারকে সমর্থন বা সরকারের বিরোধীতা করার অধিকার সকল কানাডিয়ানের রয়েছে। অনেকেই মনে করেন “বর্বরদের সাংস্কৃতি” বলে স্টিফেন হার্পার “ইসলামকে আঘাত” করছে ৪৩% খীষ্টানের ভোটে জয়লাভ করার সহজ উপায় হিসাবে ।

    আপনার নিকটস্ত ভোট কেন্দ্র যেয়ে অগ্রিম ভোট প্রদান করতে পারবেন ।বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রগুলোতে অগ্রিম নির্বাচনও অনুষ্টিত হচ্ছে। যারা ১৯ তারিখে কাজে ব্যস্ত থাকবেন তারা অক্টোবর ৯,১০,১১ ও ১২ তারিখে ভোট দিতে পারবেন।

    আমরা যারা কানাডিয়ান মুসলিম ভোটার তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ১৯শে অক্টোবরের নির্বাচনী ফলাফলের জন্য।




    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.