‘প্রবাসের স্বপ্ন অতপর যৌনদাসী’ পর্ব- ২

মানিক হোসাইন
আরব আমিরাত প্রতিনিধিঃ

গত পর্বে রেসমার পর্ব পাবলিশ করলেও বাকী ছিল আইরিন ও ফাতেমার অজানা কথা গুলো… রেসমার কথা গুলো কিছুটা সহজ হলেও আইরিনের কথা গুলো মোটেও সহজ নহে। আইরিন একান্ত আলাপ করেছেন প্রবাস নিউজের সাথে

প্রবাস নিউজঃ আরব আমিরাতে আশার সময়কালে বয়স কতো ছিল আপনার? আর আপনি কিভাবে এখানে পা রাখলেন?

আইরিনঃ আশার সময় বয়স একদম কম না, ১৮ বছরের উপরেই হবে। আমি কি বলব ভাষা খুজে পাচ্ছিনা। আসলে আমি অনেক খারাপ জগতের মানুষ এটাই সত্য তবে তার পিছনে একমাত্র দায়ী আমার প্রেমিক রাজ। আমি যখন এসএসসি পাশ করি, রাজ ওরফে জাহিদ হাসান রাজ তখন আমার গ্রামের বাড়ি থেকে পুষলে বের করে নিয়ে আসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। আমার বাড়ি রাজশাহী সুত্রাগাছা গ্রামে। রাজ তখন বেকার ছিল। সংসার থেকে তার সাথে বিয়ে দিতে মোটেও রাজি নয়।

বিয়ে করব বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহী আসলে, সে আমাকে বলে, আমরা এখানে নিরাপদ নয়। চল ঢাকা যাই। আমি বাড়ি থেকে কিছু অলংকার নিয়ে আসলাম তা বিক্রি করে ঢাকায় এসে বাসা নিলাম। দুই দিন থাকা শেষে রাজ কে আগে বিয়ে করার কথা বলি, রাজ আমায় বিয়ে করবে বলে স্থানীয় হুজুরের সাথে আলাপ করেছে বলে জানায়। কিন্তু সে বিয়ে না করেই আমাকে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। আমি যখন বার বার বলে যাচ্ছি সে কান দিতেই নারাজ। আমি বাড়ি যেতে চাইলেও বাড়ি ছিনিনা  ঢাকা থেকে। আর গিয়ে কাকে মুখ দেখাব? চলছে প্রায় ২ মাস বিয়ে ছাড়াই। তিন মাসের মাথায় গর্বে সন্তানের ভাব বুঝতে পেরে তাকে বিস্তারিত বলি। তখনি সে আমাকে নির্যাতন শুরু করে। আমি তো কিছুই টের পাচ্ছিনা কি হচ্ছে! একদম অসহায়…
ঠিক ২০১১ সালে ১২ই জুলাই সকাল ১০ টা থেকে আর খুজে পাচ্ছিনা তাকে। সে আমাকে রেখে চলে গেছে প্রায় দুই দিন। কোন খোঁজ নাই। মাস শেষে বাড়ি ওয়ালা বাড়ার জন্য আসলে দিতে পারিনাই। বাড়ি ওয়ালা একলা পেয়ে কুপ্রস্তাব দেয়,কিন্তু আমি তো অসহায়, গর্বে সন্তান, পেটে ভাত নাই দুই দিন।
পরের দিন বিকেলে এক মার্কেটে গিয়ে একজন কে ভাই ডেকে কিছু টাকা চাইলাম। লোকটি আমাকে টাকা তুলে দিবে বলে বললেন, তাদের বাসায় যেতে। আমি বিশ্বাস করে রাতে ৯ টায় গেলাম। সে আমাকে তার বাসায় নিয়ে সামনে কিছু টাকা দিলেন, কিছু ভাত দিলেন। আমি খেতে চাইলে ও আমায় বলে। ‘ খাবি খা, তবে আমায় কিছু দিতে হবে। যদি না দেস তাইলে কিছুই পাবিনা’ এই বলে এক বন্ধুকে কল দিল। সেও আসলো। আমাকে দুই জন মিলে রুমে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায় সারা রাত। পরের দিন আমি যেতে চাইলে যেতে ও দেয়নি। এইভাবে তিনদিন নির্যাতিত হয়ে আমি পাগলের মতো হয়ে পড়লাম।পাশে একজন ভদ্র লোক ব্যাপার টি দেখে পুলিশ কে কল দেয়। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে ওদের জেলে দেয়। আমি নিঃস্ব একাকী, কোথায় যাব, কোথায় খাব কোন কুল পাচ্ছিনা…

ঠিক তিনদিন পর বাসায় আসলাম। দেখি বাসার মালামাল যা ছিল সব বাহিরে পেলে দিয়ে মালিক অন্য একজন কে বাড়া দিয়ে দিলেন।
বাসা না পেয়ে এক অ্যান্টির বাসায় গিয়ে হেল্প চাইলাম। উনি আমায় থাকতে দিলেন। ওনার স্বামী আসার পর আমার থেকে বিস্তারিত জেনে আমাকে একটি বাড়িতে কাজ দেয়। সেটি গুলশান-২ মোতালেব হাউজে। সেখানে আরও বর্বর অবস্থা। আমি নিঃস্ব জীবন নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে চাইনা। শেষমেশ নিজেকে একজন যৌনদাসী হিসেবে মেনে নিয়ে ওদের কে খুশি করি রাতের আঁধারে। মাঝে মাঝে নাছে গানে আবার দেহ দিয়ে।

একসময় আরেকজন মেয়ে এমন শিকার হয়ে আমার সাথে যোগ দেয় ঐ বাড়িতে। মেয়েটি কিছুদিন পর আমাকে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে এবং আমাকে বিদেশে আশার প্রস্তাব দেয়। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে দেই। এবং দুবাইয়ের ‘গ্রুপ হোটেল’ ভিসায় আমিরাতে আসি।
আজ আমি নষ্টা, কিন্তু কেন? এর পিছনে কে দায়ী?
এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আইরিন।
তখন কেমন কষ্ট লেগেছিল একমাত্র আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন ভালো জানে।
আমাদের সমাজের কিছু নষ্টা মানুষের কারনে ফেঁসে যাচ্ছে কিছু যুবক যুবতী। এদের কেউই পাকড়াও করেনা, অতছ অপরাধী ধরতে ক্রিমিনাল বানাতে তৎপর আমাদের সমাজ। প্রশাসন কে বলছি, প্লিজ আগে মূল হোতা কে গ্রেপ্তার করুন। দেখবেন অপরাদ থাকবেনা অপরাধী থাকবেনা।

আগামী কাল থাকবে শেষ পর্ব ফাতেমার কাহিনী।

৫ thoughts on “‘প্রবাসের স্বপ্ন অতপর যৌনদাসী’ পর্ব- ২

Leave a Reply to Showkat Hossain Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.