রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ লাশটির পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের নাম আরিফুল ইসলাম মুকুল (২২)। তিনি তেজগাঁও থানার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব চট্টগ্রামের ঢাকা ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, ২৯শে জানুয়ারি বিকালে সদরঘাটে লঞ্চ থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নিহতের মামা তার লাশ শনাক্ত করে তার স্বজনরা।
সূত্র জানায়, ২৯শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে সদরঘাটের ভোলাগামী ‘কর্ণফুলী’ নামে একটি লঞ্চের কেবিন থেকে মুকুলকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে আটক করা হয়। পরে ৩০শে জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১১টায় রূপনগর থানাধীন বেড়িবাঁধের চটবাড়ি এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে রূপনগর থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়। ডিবি পরিচয়ে তাকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান।
তাকে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার কোন সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তেজগাঁও থানায় একটি জিডিও করা হয়। এ বিষয়ে নিহতের মামা তৌহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাগ্নে ফার্মগেটের কনকর্ড টাওয়ারের পেছনে একটি মেসে সহপাঠীদের সঙ্গে ভাড়া থাকতো। ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভারসিটি অব চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ঢাকা ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিল সে। তার ক্যাম্পাস ছিল ধানমন্ডিতে। মুকুল তেজগাঁও থানার ছাত্রদলের কর্মী ছিল। তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে রাতের বেলায় মুকুলের মেসে ডিবি পুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালায়।
ওই সময় মেসে মুকুলের তেমন কোন সহপাঠী ছিল না। শুধু দু’জন ঘুমিয়েছিল। তখন দু’জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই দু’জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মুকুলের নাম বলে। এরপর তাদের সূত্র অনুযায়ী মুকুলকে সদরঘাট থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে রূপনগর থানা পুলিশ। পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তবে নিহতের সহপাঠী সাইফ আলী জানিয়েছেন, মুকুল আইআইইউসির ঢাকা ক্যাম্পাসের ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুকুলের পিতার নাম প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা। গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার পশ্চিম এওয়াজপুর। দু’ভাই দু’বোনের মধ্যে মুকুল ছিল বড়।
নিহতের প্রতিবেশী সাহেব আলী জানান, মেসে পুলিশের অভিযান হয়েছে এখবর মুকুল তার পরিবারকে জানান। পরিবার তাকে গ্রামের বাড়িতে চলে আসার জন্য বলেন। বাড়িতে আসার মুহূর্তেই তাকে ডিবি পুলিশ সদরঘাট থেকে আটক করেন। তার বুকসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলির চিহ্ন আছে। তিনি আরও বলেন, মুকুল একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার নামে থানায় কোন মামলা নেই। রাষ্ট্রদ্রোহী কোন কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। রূপনগর থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আতিক/প্রবাস

